কুলাউড়ায় ইউপি সদস্যকে ফাঁসাতে ধর্ষণের ঘটনা সাজানোর চেষ্টা!

কুলাউড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুলাউড়া :: কুলাউড়ার বরমচালে ইউপি সদস্যকে ফাঁসাতে নিজের স্ত্রীকে মেম্বারের বাড়ির ১০ গজ সামনে রাস্তার পাশে শুইয়ে রাখেন লুলু মিয়া নামে এক ব্যক্তি। এঘটনায় বরমচালে বেশ সমালোচনার ঝড় উঠে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে লুলু মিয়া তার আপন চাচা বাছন মিয়াকে ঘর থেকে ডেকে বলেন ‌‌‌‌‌‌চাচা, তোমারে পঞ্চায়েতের লোকজন ডাকছেন। একথা শোনে বাছন মিয়া লুলু মিয়ার সাথে যান। কাউকে দেখতে না পেয়ে লুলুকে জিজ্ঞাসা করেন, এখানে তো কেউ নেই। এমন এক পর্যায়ে দেখেন লুলুর স্ত্রী রাস্তার পাশে পড়ে আছে। এসময় বাছন মিয়া লুলুকে ধমক দিয়ে বলেন, এগুলো কি হচ্ছে, তুই যা করছিস বিপদে পড়বি। একথা বলে চাচা সেখান থেকে ঘরে ফিরে আসেন।

লুলুর ডাক শোনেন তার আপন চাচাতো ভাই ফাজিল মিয়া। তিনি বলেন, লুলু অত্যন্ত উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতির লোক। সে কাউকে পরোয়া করে না। নিজের খামখেয়ালীতে যা ইচ্ছে মনে হয় তাই করে।

লুলু মিয়ার আপন ছোট ভাই আল আমিন বলেন, আমার ভাই অন্য মানুষের যুক্তিতে চলে। আমাকে সে ভিটা ছাড়া করেছে। আমাকে নির্যাতন করে। স্থানীয় মেম্বার সালিশে ন্যায় বিচার করায় তার বিরুদ্ধে সে ষড়যন্ত্র করছে। এগুলো ভুয়া অভিযোগ।

এবিষয়ে জানতে লুলু মিয়ার মোবাইল ফোনে শনিবার ৭ টা ২০ মিনিটে কল দিলে তিনি বলেন, আমি এশার নামাজের পর হাওরে যাই। রাত ১ টার দিকে আমার ১২ বছরের মেয়ে ফারজানা কল দিয়ে বলে, আমার স্ত্রীকে কেরামত সাথে নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে আমি হাওরে সাথে থাকা দুইজনের কাছে সব কিছু দিয়ে দৌঁড়ে চলে আসি বাড়িতে। দেখি মেয়ে কান্না করছে। আমার স্ত্রী এসে অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে অনেককে ডাকাডাকি করলে কেউ আমার ডাকে সাড়া দেয় নি।

এক পর্যায়ে লুলু মিয়া বলেন, ‌আমার স্ত্রীকে কেরামত মেম্বার অবৈধ কাজ করেছে। কেরামত মেম্বারের বাড়ির সামনের রাস্তায় তাকে ফেলে রাখে। গিয়ে দেখি আমার মেয়ে ফারজানা কান্না করছে। রাত ৪ টা থেকে সকাল ৮ পর্যন্ত আমার স্ত্রী রাস্তায় পড়ে ছিলো।

নিজের স্ত্রী অজ্ঞান ছিলো অথচ তাকে অবৈধ কাজ করা হয়েছে এটা কে বললো জানতে চাইলে লুলু মিয়া বলেন, মেয়ে ফারজানা বলেছে। এক পর্যায়ে প্রতিবেদকের সাথে কথা বলতে নারাজ হয়ে কল কেটে দিচ্ছিলেন লুলু মিয়া। ‌মেম্বারের (অজ্ঞাত) সাথে আলাপ করে আপনার সাথে পরে কথা বলবো এমনটা বলে লাইন কেটে দেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য কেরামত আলী বলেন, ‌শুক্রবার এলাকায় একটা সালিশ বৈঠক ছিলো। রাত ১২টায় বৈঠক শেষ হয়। এলাকার অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সালিশে উপস্থিত ছিলেন। পরে আমি বাড়িতে চলে যাই। সারাদিন ব্যস্ততায় ক্লান্ত ছিলাম। তাই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। সকাল ৮ টার দিকে আমার প্রতিবেশিরা এসে জানায়, একজন মহিলা রাস্তায় পড়ে আছে। একটি মেয়ে পাশে কান্নাকাটি করছে। তাৎক্ষনিক আমি স্থানীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানাই। এবং কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জকে বিষয়টি জানাই। উনার পরামর্শে ইউপি গ্রাম পুলিশের সহায়তায় লুলুর স্ত্রীকে হাসপাতালে পাঠাই। লুলু আমাকে কল করে টাকা সাথে নাই বললে ওষুধ আমি ১ হাজার টাকা বিকাশ করে পাঠাই। এর বেশী কিছু আমি জানি না। অন্য একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লুলু ও তার ভাইয়ের মধ্যে সম্পত্তিগত বিবাধ চলছে। সালিশে সঠিক বিচার করতে গিয়ে লুলু অসন্তুষ্ট হয়। এরই জেরে সে আমার নির্বাচনী প্রতিপক্ষদের মদদে ষড়যন্ত্র করছে।

কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইয়ারদৌস হাসান বলেন, ইউপি সদস্য সকালে কল দিয়ে বলেন একটি মহিলা রাস্তায় পড়ে আছে। আমি পরামর্শ দেই চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য। পরে ওই মহিলা কুলাউড়া হাসপাতালে না এসে সরাসরি মৌলভীবাজার হাসপাতালে চলে যান। আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ করে নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *